লেবানন পোড়ানোর হুমকি, ইরানের কঠোর জবাব

spot_img

দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে চার ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার পর দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভীরের উসকানিমূলক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ‘পুরো লেবানন জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিতে হবে’—এমন মন্তব্যের কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসরাইলের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ‘সমগ্র মানবজাতির জন্য হুমকি’ বলে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে লেবাননকে শান্তি প্রক্রিয়ার অপরিহার্য অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ‘এই মৃত্যু-উপাসক গোষ্ঠীটি পুরো বিশ্বের জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের একমাত্র লক্ষ্য চিরস্থায়ী যুদ্ধ।’ তার এই মন্তব্য বেন-গভীরের বক্তব্যের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে লেবাননসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সামরিক অভিযান বন্ধের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। তবে ওই সমঝোতার পরদিন, ১৮ জুন মধ্যরাত থেকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইল বিমান হামলা আরও জোরদার করে বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। এর জবাবে পাল্টা হামলা চালায় হিজবুল্লাহ।

নাবাতিয়ার উপকণ্ঠে দুই পক্ষের তীব্র সংঘর্ষে এক লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ চার ইসরাইলি সেনা নিহত হয়। একই সময়ে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও ৩৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এই প্রেক্ষাপটে বেন-গভীর বলেন, ‘পুরো লেবানন জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিতে হবে।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘ইসরাইলি মায়ের এক ফোঁটা চোখের জলের বিনিময়ে এক হাজার লেবানিজ মাকে কাঁদতে হবে।’ পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানান, নাগরিকদের নিরাপত্তাকে যেন কোনো ধরনের দরকষাকষির বিষয় হিসেবে বিবেচনা না করা হয়।

অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরান সাময়িক বিরতি নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর যুদ্ধবিরতি চায়। তার মতে, সংঘাতের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হলে লেবাননকে যেকোনো শান্তি উদ্যোগের আওতায় আনতেই হবে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইতামার বেন-গভীর অতীতেও ফিলিস্তিনিদের নিয়ে একাধিক বিতর্কিত ও উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পথে নতুন বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

আমাদের আরও আপডেট পেতে চোখ রাখুন: ফেসবুক: facebook.com/DailyPerspective.tv ইউটিউব: youtube.com/@DailyPerspectivebd ওয়েবসাইট: dailyperspective.tv Instagram: instagram.com/dailyperspective.tv

spot_img
Latest news
Related news

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here