সরকার গঠনের চার মাস পর প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে বেরিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার বিকেলে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। ছয় দিনের এই সফরের দ্বিতীয় পর্বে তিনি চীন সফর করবেন, যেখানে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রায় ১৫ থেকে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সফরের মূল উদ্দেশ্য অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা। এ লক্ষ্যেই ২৭ থেকে ২৮ সদস্যের একটি তুলনামূলক ছোট প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে অংশ নিয়েছে।
আরও পড়ুন: শিক্ষামন্ত্রীর নতুন ঘোষণা: মাদরাসা নিয়ে সুখবর দিলেন
মালয়েশিয়া পর্বে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় প্রাধান্য পাবে। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে চীন অধ্যায়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। পাশাপাশি ২৬ জুন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ নির্ধারিত রয়েছে। এ সময় অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি, কানেক্টিভিটি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ঘিরে প্রায় ১৫ থেকে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: শিক্ষা খাতে বড় উদ্যোগ: ৬৭০টি নতুন স্কুল-কলেজ স্থাপনের ঘোষণা
বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে দীর্ঘদিনের আলোচিত তিস্তা প্রকল্প। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তিস্তা ইস্যু শুধু একটি অবকাঠামোগত উদ্যোগ নয়; এটি উত্তরাঞ্চলের কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক উন্নয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বহু বছর ধরে আলোচনা চললেও প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে এবারের সফরে এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয় কি না, সেটিই সবচেয়ে বেশি পর্যবেক্ষণে থাকবে।
চীন সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দালিয়ানে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘সামার দাভোস’ বা ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর ১৭তম আসরে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সম্মেলনে বৈশ্বিক উদ্ভাবন, প্রযুক্তি এবং টেকসই অর্থনৈতিক রূপান্তর নিয়ে আলোচনা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। প্রথম সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়া ও চীনকে বেছে নেওয়াকে নতুন সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতির অগ্রাধিকার নির্ধারণের একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। একদিকে শ্রমবাজার ও প্রবাসী কল্যাণ, অন্যদিকে অবকাঠামো, প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগ—দুই ক্ষেত্রেই সম্পর্ক জোরদারের কৌশল এ সফরে স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা করছে, সফরের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কানেক্টিভিটি খাতে নতুন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি অর্জিত হবে। ছয় দিনের সফর শেষে আগামী শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
তবে সফরের প্রকৃত সাফল্য কতটা হবে, বিশেষ করে তিস্তা প্রকল্প ও সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলোর বাস্তব অগ্রগতি কতদূর পৌঁছায়, তা জানতে সফর শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আমাদের আরও আপডেট পেতে চোখ রাখুন: ফেসবুক: facebook.com/DailyPerspective.tv ইউটিউব: youtube.com/@DailyPerspectivebd ওয়েবসাইট: dailyperspective.tv Instagram: instagram.com/dailyperspective.tv

