দেশজুড়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ক্রমেই উদ্বেগজনক আকার নিচ্ছে। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৮০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং এ সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন সাতজন। বিশেষ করে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে সংক্রমণের বিস্তার সবচেয়ে বেশি হওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, জুন মাসেই ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মাসের প্রথম ১৯ দিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৮৩ জন রোগী, যা এপ্রিল ও মে মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুম জোরদার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অক্টোবর পর্যন্ত সংক্রমণের এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।
আরও পড়ুন: থামছে না হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল ৩ শিশুর
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬০১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলেও সংক্রমণের বিস্তারের দিক থেকে বরিশাল ও খুলনা বিভাগ বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বরিশাল বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৪৩ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৫৬ জন। অন্যদিকে শরীয়তপুর, মৌলভীবাজার, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়—এই ছয় জেলায় এখনো কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়নি।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে এবং জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ১ লাখ ব্যাগ স্যালাইন মজুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে মোট শয্যার ১০ শতাংশ বিনা মূল্যে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বরাদ্দ রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমও চলছে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুর ভয়ংকর রূপ: একদিনেই প্রাণ গেল দুই নারীর
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু মশা নিধন অভিযান চালালেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞানের অধ্যাপক কবিরুল বাশারের মতে, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়। তাঁর ভাষায়, মশার বংশবিস্তার রোধে জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ এবং নিয়মিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জুলাই ও আগস্ট মাসে ডেঙ্গুর সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদেরও বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং এডিস মশার প্রজনন রোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। তাদের মতে, সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।
আমাদের আরও আপডেট পেতে চোখ রাখুন: ফেসবুক: facebook.com/DailyPerspectivebd ইউটিউব: youtube.com/@DailyPerspectivebd ওয়েবসাইট: dailyperspective.tv

