আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে শান্তি আলোচনার প্রস্তুতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালী বন্ধের দাবি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধের ঘোষণা দিলেও, মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে আইআরজিসি গতকাল শনিবার হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শনিবার ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে এই প্রণালী অতিক্রম করেছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল পরিবহন করা হয়েছে। সেন্টকম আরও জানায়, এই নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর।
আরও পড়ুন: পদত্যাগের গুঞ্জন: চাপে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার
শান্তি আলোচনার পরিবেশ বর্তমানে বেশ জটিল। একদিকে লেবাননে যুদ্ধবিরতি থাকলেও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবার অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ১৪ দফা চুক্তির প্রথম শর্ত অর্থাৎ লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চুক্তি বাস্তবে কার্যকর না হলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে না।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বার্তায় জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি চলাকালে হরমুজ প্রণালীতে কোনো টোল নেওয়া হবে না। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে এই জলপথ ব্যবহারে ফি আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
আরও পড়ুন: ইরান সংকট ও চীনের নতুন কূটনৈতিক কৌশল: ফল ঘরে তুলছে বেইজিং
এদিকে, সুইজারল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া এই আলোচনায় যোগ দিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা রওনা হয়েছেন। ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে ইরানি প্রতিনিধিদলও সেখানে উপস্থিত হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরও এতে অংশ নিচ্ছেন। ভ্যান্স আশা প্রকাশ করেছেন, এই আলোচনার মাধ্যমে পারমাণবিক ইস্যু ও লেবানন যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।
আমাদের আরও আপডেট পেতে চোখ রাখুন: ফেসবুক: facebook.com/DailyPerspectivebd ইউটিউব: youtube.com/@DailyPerspectivebd ওয়েবসাইট: dailyperspective.tv
