আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান সংকটকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে চীন নিজেদের অবস্থানকে ক্রমশ শক্তিশালী করে তুলছে। এক সময়ের এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এখন বেইজিংয়ের জন্য নতুন কূটনৈতিক সাফল্যের সুযোগ নিয়ে এসেছে। যুদ্ধের শুরুর দিকে মিত্র রাষ্ট্র হারানোর আশঙ্কায় থাকা চীন এখন নিজেকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির মধ্যস্থতাকারী প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।
ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরান যখন তীব্র সংকটের মুখে পড়ে, তখন বেইজিংয়ের কৌশলগত অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধের কয়েক মাস পর মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকার টিকে যাওয়ায় চীনের ভূ-রাজনৈতিক হিসাব বদলে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত বর্তমানে ওয়াশিংটনের শক্তির সীমাবদ্ধতাকেই বেশি করে সামনে নিয়ে এসেছে, যেখানে চীন কৌশলে নিজেকে নিরপেক্ষ ও শান্তিকামী শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করছে।
আরও পড়ুন:কাশ্মীর ও পানি চুক্তি নিয়ে ভারত-পাকিস্তান উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়
চীন একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান অভিযানের সমালোচনা করেছে, অন্যদিকে তেহরানের সাথে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ নিরবচ্ছিন্ন রেখেছে। এমনকি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরানের তেল কেনা অব্যাহত রেখে বেইজিং নিজের জ্বালানি নিরাপত্তাও নিশ্চিত করেছে। চীনের এই ভারসাম্যপূর্ণ ও বিচক্ষণ কৌশল আন্তর্জাতিক মহলে বেশ আলোচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: তোপে ডেমোক্র্যাটরা, ইরান চুক্তি নিয়ে কোণঠাসা ট্রাম্প
চীনের এই ক্রমবর্ধমান ভূমিকা দেখে অনেক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘সুয়েজ মুহূর্ত’ হিসেবে দেখছেন। অর্থাৎ, এমন একটি সন্ধিক্ষণ যা বিশ্ব নেতৃত্বের ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। বেইজিং এখন তাদের সার্বভৌমত্ব এবং অহস্তক্ষেপ নীতির মাধ্যমে অনেক দেশের কাছে একটি বিকল্প কূটনৈতিক মডেল হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে চাচ্ছে।
তবে বেইজিং বিশ্ব নেতৃত্বের শীর্ষে পৌঁছাতে পারবে কি না, তা নির্ভর করবে তাদের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত সক্ষমতার ওপর। আপাতত, ইরান সংকটকে কাজে লাগিয়ে চীন যে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রভাব বিস্তারে সফল হচ্ছে, তা স্পষ্ট।
আমাদের আরও আপডেট পেতে চোখ রাখুন: ফেসবুক: facebook.com/DailyPerspectivebd ইউটিউব: youtube.com/@DailyPerspectivebd ওয়েবসাইট: dailyperspective.tv
