ট্রাম্প-মেলোনি বাকযুদ্ধে নতুন কূটনৈতিক সংকট

spot_img

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যে প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ নতুন করে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনকে ঘিরে ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা মন্তব্যের জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মেলোনি। এ ঘটনার পর ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানির যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল হওয়ার খবর সামনে এসেছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শনিবার (২০ জুন) সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেন, জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন এবং তিনি ‘করুণা’ করে তাতে সম্মতি দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন না দেওয়ায় ইতালির প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা কমে যাচ্ছে।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের জবাবে মেলোনি ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, আমার জনপ্রিয়তা নিয়ে আপনাকে উদ্বিগ্ন হতে হবে না। ইতালির জনগণের আস্থা আমি অর্জন করেছি দেশের স্বার্থ রক্ষা করে।’

পরে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ইতালির প্রধানমন্ত্রী আরও কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ‘মনগড়া’ বক্তব্য তাঁকে বিস্মিত করেছে। মিত্র রাষ্ট্রের নেতাদের সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্যের কোনো যৌক্তিকতা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে মেলোনি স্পষ্ট করেন, ইতালি কিংবা তিনি ব্যক্তিগতভাবে কখনোই কারও কাছে কোনো কিছুর জন্য অনুনয় বা ভিক্ষা চান না।

এই উত্তপ্ত বাকবিনিময়ের পর ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানির নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। যদিও সফর বাতিলের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবু ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলেই মনে করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্পের ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে জর্জিয়া মেলোনিকে অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার সময় ইতালি নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানালে দুই নেতার সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করে। মেলোনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে ইতালি প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেবে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থানই ট্রাম্পের অসন্তোষের অন্যতম কারণ।

এদিকে ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনেও ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দেশটির ডানপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলো এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মেলোনির দল ‘ব্রাদার্স অব ইতালি’ তাঁর পক্ষে বিবৃতি দিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলোও এ ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মেলোনির অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকাশ্য বিরোধ ট্রাম্প প্রশাসনের ইউরোপনীতি বাস্তবায়নে নতুন জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে মেলোনির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি কূটনৈতিকভাবে ওয়াশিংটনের জন্যও অস্বস্তিকর হতে পারে। এখন নজর থাকবে, সাম্প্রতিক উত্তেজনা কাটিয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব ভবিষ্যতে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে এগোতে পারে কি না।

আমাদের আরও আপডেট পেতে চোখ রাখুন: ফেসবুক: facebook.com/DailyPerspectivebd ইউটিউব: youtube.com/@DailyPerspectivebd ওয়েবসাইট: dailyperspective.tv

spot_img
Latest news
Related news

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here