আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি ইরানের সম্ভাব্য হত্যার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চলমান উদ্বেগের মধ্যেই তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি ইরান তাকে হত্যায় সফল হয়, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে নজিরবিহীন সামরিক হামলার পরিকল্পনা আগে থেকেই প্রস্তুত রয়েছে। শুক্রবার নিউ ইয়র্ক পোস্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সতর্কতা ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তার এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ২০২০ সালে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের গোয়েন্দা তথ্য থাকলেও চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নতুন একটি সতর্কবার্তা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য একটি নির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সম্ভাব্য এই হুমকিকে ট্রাম্প খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। বরং দীর্ঘদিন ধরে ইরানের লক্ষ্যবস্তু হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি স্বভাবসুলভ রসিকতাও করেন। একই সঙ্গে স্পষ্ট ভাষায় জানান, তার মৃত্যু ঘটলে ইরানের বিরুদ্ধে এমন মাত্রার বোমা হামলা চালানো হবে, যা দেশটি আগে কখনও দেখেনি।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সম্প্রতি ন্যাটো সম্মেলন শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার সময় ট্রাম্পের বিমান পরিবর্তন করা হয়। নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানের পরিবর্তে তাকে পুরোনো বিমান ব্যবহার করে ফিরিয়ে আনা হয়। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গৃহীত একটি কৌশলগত ব্যবস্থা।
যদিও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে কোনো হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেনি, তবু সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির অভ্যন্তরে ট্রাম্পবিরোধী মনোভাবের বিভিন্ন প্রকাশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনীর জানাজায় অংশ নেওয়া কিছু মানুষের মুখে ট্রাম্পের মৃত্যুকামনাসূচক স্লোগানও শোনা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও পাল্টা হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। ২০২০ সালের সোলেইমানি হত্যাকাণ্ডের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে গভীর সংকট তৈরি হয়েছিল, তার রেশ এখনও কাটেনি। এ অবস্থায় উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের বক্তব্যকে ঘিরে সমালোচনাও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, তার মন্তব্য মার্কিন সামরিক নীতি ও প্রচলিত কূটনৈতিক রীতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যদিও হোয়াইট হাউস তার নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দেশটির কিছু গণমাধ্যমে ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা প্রকাশিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আগেই কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি।
আমাদের আরও আপডেট পেতে চোখ রাখুন: ফেসবুক: facebook.com/DailyPerspective.tv ইউটিউব: youtube.com/@DailyPerspectivebd ওয়েবসাইট: dailyperspective.tv Instagram: instagram.com/dailyperspective.tv

