বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৪ মিনিট মাঠে নেমেছেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। হাঁটুর নিচের অংশের চোট কাটিয়ে দলে ফিরলেও তাকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাননি প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তবে ব্রাজিলের শেষ ষোলোর ম্যাচ সামনে রেখে কোচ জানিয়েছেন, নেইমার এখন পূর্ণ ৯০ মিনিট খেলার মতো ফিট। তবুও নরওয়ের বিপক্ষে তাকে শুরুর একাদশে রাখা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনা করেই।
৩৪ বছর বয়সী নেইমার এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কেবল গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে শেষ ১৪ মিনিট খেলেছেন। এরপর আর কোনো ম্যাচে তাকে মাঠে দেখা যায়নি। ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার জন্য এমন সীমিত সুযোগ স্বাভাবিকভাবেই হতাশার, বিশেষ করে যখন এটি তার শেষ বিশ্বকাপও হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ব্যক্তিগত হতাশাকে কখনোই দলের ওপর প্রভাব ফেলতে দেননি নেইমার। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ফোলহা দে সাও পাওলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কার্লো আনচেলত্তি বলেন, নেইমার খেলতে না পারায় খুশি নন, কিন্তু তার আচরণ ছিল সম্পূর্ণ পেশাদার। নিয়মিত অনুশীলনের পাশাপাশি সতীর্থদের প্রতি তার ইতিবাচক মনোভাব দলের পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করছে।
আনচেলত্তির ভাষায়, নেইমার শুধু মাঠের খেলোয়াড় নন; ড্রেসিংরুমেও তিনি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তার অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং উপস্থিতি তরুণ ও অভিজ্ঞ—সব খেলোয়াড়ের মধ্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একজন অভিজ্ঞ ফুটবলারের এমন ভূমিকা দীর্ঘ টুর্নামেন্টে দলের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেন ব্রাজিল কোচ।
নেইমারের বর্তমান শারীরিক অবস্থার প্রশংসা করে আনচেলত্তি বলেন, তিনি এখন পুরো ম্যাচ খেলতে সক্ষম। তবে মাঠে কতক্ষণ খেলবেন, সেটি আগে থেকে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। ম্যাচের গতি, কৌশলগত চাহিদা এবং দলের প্রয়োজন বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময় আগামী সোমবার নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নেইমার শুরু থেকেই খেলবেন কি না, সেটিই এখন সমর্থকদের সবচেয়ে বড় কৌতূহল। অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডকে শুরু থেকেই নামানো হবে, নাকি আবারও বদলি হিসেবে ব্যবহার করা হবে—সে সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে ফুটবলপ্রেমীরা।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, নেইমারের মতো অভিজ্ঞ ও সৃজনশীল ফুটবলারকে দীর্ঘ সময় বেঞ্চে রাখা সহজ সিদ্ধান্ত নয়। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক চোটের বিষয়টি মাথায় রেখে তাকে ধীরে ধীরে ব্যবহার করাও যৌক্তিক হতে পারে। নরওয়ের মতো শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচের নির্দিষ্ট মুহূর্তে নেইমারের অভিজ্ঞতা বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে বলেও মত তাদের।
সব মিলিয়ে, ব্রাজিলের শিরোপা অভিযানে নেইমারের ভূমিকা এখনও অনিশ্চিত। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—ব্যক্তিগত হতাশার চেয়ে দলের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন তিনি। এখন দেখার বিষয়, শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে আনচেলত্তি তার সবচেয়ে অভিজ্ঞ তারকাকে কীভাবে ব্যবহার করেন।
আমাদের আরও আপডেট পেতে চোখ রাখুন: ফেসবুক: facebook.com/DailyPerspective.tv ইউটিউব: youtube.com/@DailyPerspectivebd ওয়েবসাইট: dailyperspective.tv Instagram: instagram.com/dailyperspective.tv

