নরওয়ে ম্যাচের আগে নেইমারকে নিয়ে আশার বার্তা আনচেলত্তির

spot_img

নিউ জার্সি: দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপ দলে ফিরলেও এখন পর্যন্ত খুব বেশি সময় মাঠে নামা হয়নি ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়রের। তবে শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তার ফিটনেস নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তার ভাষ্য, নেইমার এখন পুরো ৯০ মিনিট খেলতে প্রস্তুত, তবে তাকে মাঠে নামানো হবে দলের প্রয়োজন বিবেচনা করেই।

রোববার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নরওয়ের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ম্যাচটিকে ঘিরে সমর্থকদের সবচেয়ে বড় কৌতূহল—শুরু থেকেই কি মাঠে দেখা যাবে নেইমারকে?

দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে বিশ্বকাপে ফিরলেও কাফের চোট পুরোপুরি সেরে না ওঠায় গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ১৪ মিনিট খেলেছিলেন ব্রাজিলের এই সুপারস্টার। সেটিই ছিল প্রায় ৯৮১ দিন পর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে তার প্রত্যাবর্তন।

এর আগে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে নামানোর সম্ভাবনা থাকলেও কৌশলগত কারণে শেষ পর্যন্ত বেঞ্চেই রেখেছিলেন কোচ আনচেলত্তি। তবে নরওয়ে ম্যাচের আগে সংবাদমাধ্যমকে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “সে খেলার জন্য প্রস্তুত। দলের যখন প্রয়োজন হবে, তখনই তাকে মাঠে নামানো হবে। পুরো ম্যাচ খেলার মতো ফিট সে—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।”

ব্রাজিল শিবিরে চোট সমস্যাও নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। লুকাস পাকুয়েতা ইনজুরির কারণে ছিটকে গেছেন, অন্যদিকে রাফিনিয়া এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন। ফলে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি কিংবা দানিলো সান্তোসের সঙ্গে আক্রমণভাগে নেইমারের উপস্থিতির সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

আনচেলত্তি স্বীকার করেছেন, বেঞ্চে বসে থাকা নেইমারের মতো প্রতিযোগিতাপ্রবণ ফুটবলারের জন্য সহজ নয়। তবে তার পেশাদার মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ইতালিয়ান এই কোচ। তিনি বলেন, “বেঞ্চে বসে থাকা তার জন্য সুখকর নয়, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তার পেশাদারিত্ব আমাকে মুগ্ধ করেছে। সে দলের অন্যতম প্রেরণা এবং সতীর্থদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তার শরীরী ভাষাই বলে দেয়, সে মাঠে নামার জন্য কতটা উদগ্রীব।”

নেইমারের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন এমন এক সময়ে, যখন বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। ২০০২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে মূল পর্বে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের কাছে একাধিকবার হতাশার বিদায় দেখতে হয়েছে সেলেসাওদের। গত পাঁচটি আসরেই কোনো না কোনো ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল।

এই প্রেক্ষাপটে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু শেষ ষোলোর লড়াই নয়, বরং ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দীর্ঘদিনের মানসিক বাধা ভাঙারও পরীক্ষা। শক্তিশালী, শারীরিকভাবে সক্ষম এবং কৌশলগতভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ নরওয়ের বিপক্ষে অভিজ্ঞতার মূল্য অনেক বেশি। সেই জায়গায় নেইমারের উপস্থিতি ব্রাজিলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিতে পারে।

মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ড্রেসিংরুমেও নেইমারের প্রভাব উল্লেখযোগ্য। তরুণ খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করা থেকে শুরু করে কঠিন মুহূর্তে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা তাকে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্যে পরিণত করেছে। সব মিলিয়ে শুরু থেকেই তাকে একাদশে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে ম্যাচ পরিকল্পনার ওপর। শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক একাদশ ঘোষণাই জানিয়ে দেবে, নেইমারের বিশ্বকাপ যাত্রায় এবার নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে, নাকি অপেক্ষা বাড়ছে আরও কিছুটা।

আমাদের আরও আপডেট পেতে চোখ রাখুন: ফেসবুক: facebook.com/DailyPerspective.tv ইউটিউব: youtube.com/@DailyPerspectivebd ওয়েবসাইট: dailyperspective.tv Instagram: instagram.com/dailyperspective.tv

spot_img
Latest news
Related news

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here