নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা কয়েক দিনের অতি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। দুর্যোগের মধ্যেই পৃথক ঘটনায় চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে দুই শিশু এবং কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে চকরিয়ার শতাধিক গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার পরিবার এখনও পানিবন্দী অবস্থায় মানবিক সংকটের মুখোমুখি রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চকরিয়ায় বন্যার পানি থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নৌকাযোগে রওনা হওয়ার সময় একটি নৌকা দুর্ঘটনার শিকার হয়। প্রবল স্রোতের মধ্যে পড়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে পৃথক ঘটনায় দুই শিশুর প্রাণহানির খবর নিশ্চিত হয়েছে। টানা বর্ষণে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বসতঘর, গ্রামীণ সড়ক এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা।
আরও পড়ুন:মশার ‘পান্না-নগরী’ গড়ে ওঠে পানির ওপরে নিঃশব্দে
চকরিয়ার বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকায় অন্তত ৩০ হাজার পরিবার খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর তীব্র সংকটে দিন কাটাচ্ছে। পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ প্রতিদিনই বাড়ছে। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের জন্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
বাঁশখালীতেও বন্যা পরিস্থিতি নাজুক রয়ে গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হলেও প্রতিকূল আবহাওয়া এবং তীব্র স্রোতের কারণে কার্যক্রমে নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দ্রুত পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত না হলে মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।
এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো ত্রাণ সহায়তা নিয়ে মাঠে কাজ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা এখনও অপ্রতুল। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে এবং দুর্গত মানুষের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। নিহত তিন শিশুর পরিবারের শোকের পাশাপাশি হাজারো পানিবন্দী মানুষের অনিশ্চয়তা এখন এই দুর্যোগের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।
আমাদের আরও আপডেট পেতে চোখ রাখুন: ফেসবুক: facebook.com/DailyPerspective.tv ইউটিউব: youtube.com/@DailyPerspectivebd ওয়েবসাইট: dailyperspective.tv Instagram: instagram.com/dailyperspective.tv

