হামে এক দিনে ৮ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ছাড়াল ১.২৯ লাখ

spot_img

ঢাকা, বৃহস্পতিবার: দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৭১ শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৈনিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭৯ জনে এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৯৭ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়েছে আরও ৯৭৪ শিশু। নতুন মৃত্যুর মধ্যে ঢাকায় তিনজন, খুলনায় দুজন এবং সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬৮৪ শিশু। এ ছাড়া পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে আরও ৯৫ জনের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এ সময়ে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৮ শিশুর মধ্যে। এর মধ্যে ১৪ হাজার ১০৪ শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।

হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও ক্রমেই বাড়ছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৯৭ হাজার ৮১৯ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯৪ হাজার ২৭৫ জন।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হলেও সময়মতো টিকাদান ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা গ্রহণ করলে এর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রে শুরুতে হামের লক্ষণ সাধারণ জ্বর বা অন্য অসুস্থতার মতো মনে হওয়ায় চিকিৎসা নিতে দেরি হচ্ছে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা এ রোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় টিকাদানের ঘাটতি, জনসচেতনতার অভাব এবং চিকিৎসা নিতে দেরি হওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, হাম নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক পরিবার পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা না পাওয়ায় বাড়িতেই শিশুদের চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তারা টিকা গ্রহণ বৃদ্ধি, ভিড় এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।

এদিকে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী, অক্সিজেন সরবরাহ ও স্যালাইন মজুত বাড়ানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আক্রান্তের বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং মানুষের মধ্যে টিকা বিষয়ে আস্থা তৈরি করাই এই সংকট মোকাবিলার প্রধান উপায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা অভিভাবকদের টিকাদান বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আমাদের আরও আপডেট পেতে চোখ রাখুন: ফেসবুক: facebook.com/DailyPerspective.tv ইউটিউব: youtube.com/@DailyPerspectivebd ওয়েবসাইট: dailyperspective.tv Instagram: instagram.com/dailyperspective.tv

spot_img
Latest news
Related news

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here