ন্যায্য বেতন ও স্বীকৃতির দাবিতে রংপুরে ডাক কর্মীদের আন্দোলন

spot_img

রংপুর: বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতি এবং দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য দূর করার দাবিতে রংপুরের বিভিন্ন শাখা ডাকঘরের কর্মচারীরা সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছেন। রংপুর প্রধান ডাকঘরের সামনে জেলা ডাক কর্মচারী ইউনিয়নের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কর্মচারীরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মস্থলে না ফেরার ঘোষণা দেন।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন জেলা ডাক কর্মচারী ইউনিয়নের নেতা গোলাম সারোয়ার বুলবুল। তিনি বলেন, শাখা ডাক বিভাগের কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। কিন্তু বারবার দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় সোমবার থেকে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়েছে। তিনি জানান, রংপুর প্রধান ডাকঘরের অধীন সব শাখা অফিসের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে এবং দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

বেতন বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরে গোলাম সারোয়ার বুলবুল বলেন, বর্তমানে অনেক শাখা ডাক কর্মচারী মাসিক মাত্র ৪ হাজার টাকা বেতন পান, যা বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই ধরনের দায়িত্ব পালন করেও অন্য সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় এত কম বেতন পাওয়াকে তিনি বৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করেন এবং এর অবসান দাবি করেন। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।

ধর্মঘটে অংশ নেওয়া ডাক কর্মচারী ইসলাম উদ্দিন বলেন, তারা মাসে ৪ হাজার ৩৫৪ টাকা বেতন পান, যা দৈনিক হিসাবে প্রায় ১৩৩ টাকা। এই আয়ে পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা প্রায় অসম্ভব। তার ভাষায়, একজন দিনমজুর যেখানে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় করেন, সেখানে সারাদিন চিঠি বিতরণ করেও তারা সেই তুলনায় অনেক কম পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। সরকারি অন্যান্য কর্মচারীরা যেখানে ২৯ হাজার থেকে ৪৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পান, সেখানে তাদের সন্তানদের পড়াশোনা, সংসার পরিচালনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরেক কর্মচারী রবিউল ইসলাম রুবেল অভিযোগ করেন, ডাক বিভাগের প্রায় ২৯ হাজার কর্মচারীর মধ্যে ১৬ হাজার জন সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলেও বাকি কর্মীরা এখনও সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তার দাবি, হাইকোর্ট ২৯ হাজার কর্মচারীকে স্বীকৃতি দেওয়ার নির্দেশ দিলেও তা এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। আদালতের নির্দেশ কার্যকর করে সব কর্মচারীকে সমান মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে বেতন কাঠামো ও প্রশাসনিক স্বীকৃতি নিয়ে চলমান অসন্তোষের জেরে এই ধর্মঘট নতুন মাত্রা পেয়েছে। কর্মচারীদের অভিযোগ, বৈষম্যমূলক বেতন ব্যবস্থা তাদের শুধু আর্থিক সংকটেই ফেলেনি, বরং পারিবারিক ও সামাজিক জীবনেও চাপ বাড়িয়েছে। তারা সরকারি অন্যান্য কর্মচারীদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

অন্যদিকে, এই ধর্মঘট দীর্ঘায়িত হলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চিঠি ও পার্সেল বিতরণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ডাকনির্ভর বিভিন্ন সেবার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।

আমাদের আরও আপডেট পেতে চোখ রাখুন: ফেসবুক: facebook.com/DailyPerspective.tv ইউটিউব: youtube.com/@DailyPerspectivebd ওয়েবসাইট: dailyperspective.tv Instagram: instagram.com/dailyperspective.tv

spot_img
Latest news
Related news

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here