দীর্ঘ ১২ বছরের বেশি সময় ধরে স্থবির থাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রশাসনিক কার্যক্রম অবশেষে শুরু হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাম্প্রতিক রায়ে পদোন্নতি-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান ঘটায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে। তবে শিক্ষকরা দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়ে বলছেন, অতীতের প্রশাসনিক ধীরগতির পুনরাবৃত্তি হলে আবারও তারা বঞ্চনার শিকার হতে পারেন।
বর্তমানে দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে ৩৬ হাজার ২৩৫টি। সংশ্লিষ্টদের মতে, পদোন্নতি কার্যক্রম সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব সংকট অনেকটাই কাটবে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, একাডেমিক কার্যক্রমের সমন্বয় এবং দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনায় যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা দূর হওয়ারও আশা করা হচ্ছে।
রংপুর অঞ্চলের এক সহকারী শিক্ষক পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আদালতের রায় তাদের নতুন করে আশাবাদী করেছে। তবে অতীতে প্রশাসনিক জটিলতা ও বিলম্বের কারণে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়েছে। তাই আর দেরি না করে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে পদোন্নতির পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার দাবি জানান তিনি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী জানান, পদোন্নতির প্রশাসনিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আপিল বিভাগের রায়ের প্রত্যয়িত কপি হাতে পাওয়ার পর গ্রেডেশন তালিকা প্রস্তুত করে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী পদোন্নতির পরবর্তী সব ধাপ সম্পন্ন করা হবে।
পদোন্নতি স্থগিত থাকার পেছনে দীর্ঘ আইনি ইতিহাস রয়েছে। ২০১৩ সালে বিপুলসংখ্যক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের পর জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে শিক্ষকরা রিট আবেদন করেন এবং ২০১৯ সালে হাইকোর্ট কিছু বিধান অবৈধ ঘোষণা করলে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। সম্প্রতি আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল গ্রহণ করে রায় দেওয়ায় দীর্ঘদিনের আইনি জটের অবসান ঘটে।
তবে শুধু আদালতের মামলা নয়, শিক্ষক সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ বিভক্তি, ভিন্নমুখী অবস্থান এবং নেতৃত্বের দ্বন্দ্বও পদোন্নতি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঢাকার এক সহকারী শিক্ষক বলেন, সংগঠনগুলোর বিরোধের মাশুল সাধারণ শিক্ষককেই দিতে হয়েছে। এখন যেহেতু আইনি বাধা দূর হয়েছে, তাই দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে পেশাগত বঞ্চনার অবসান ঘটানোর সময় এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই পদোন্নতি সম্পন্ন হলে ৩৬ হাজার ২৩৫টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য হবে। বিদ্যমান শূন্যপদের সঙ্গে মিলিয়ে প্রায় ৩৮ হাজার ৪৩৩ জন নতুন শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষক সংকট নিরসনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের মতে, প্রধান শিক্ষক পদে শূন্যতা কমে এলে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বাড়বে, শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হবে এবং একাডেমিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। শিক্ষক সমাজ এখন প্রত্যাশা করছে, আইনি জটিলতা কাটার পর প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং বহু বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটবে।
আমাদের আরও আপডেট পেতে চোখ রাখুন: ফেসবুক: facebook.com/DailyPerspective.tv ইউটিউব: youtube.com/@DailyPerspectivebd ওয়েবসাইট: dailyperspective.tv Instagram: instagram.com/dailyperspective.tv

