রাজনৈতিক চিন্তাবিদ, লেখক, গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে দেশের সর্বস্তরের মানুষ। সোমবার (৬ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে তাঁর মরদেহ রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হলে সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ৮৬ বছর বয়সে আকস্মিক হৃদরোগে তাঁর মৃত্যু দেশের শিক্ষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
শহীদ মিনারে নেওয়ার আগে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অধ্যাপক ফজলুল হকের মরদেহ বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আনা হয়। সেখানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে প্রয়াত এই শিক্ষাবিদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।
রোববার (৫ জুলাই) আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৮৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। তাঁর মৃত্যুতে দেশের শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়েছে, তাঁকে রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
অধ্যাপক ফজলুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এবং জাতীয় কবিতা পরিষদ পৃথক শোকবার্তায় তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন, বুদ্ধিবৃত্তিক অবদান এবং সমাজমনস্ক চিন্তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে।
বাংলাদেশের শিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তাঁর গবেষণা, প্রবন্ধ, সাহিত্যচর্চা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ দেশের জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং সমসাময়িকদের কাছে তিনি ছিলেন ন্যায়নিষ্ঠ, স্পষ্টভাষী ও মুক্তচিন্তার এক প্রতীক। তাঁর প্রয়াণে দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর চিন্তা, দর্শন ও কর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
আমাদের আরও আপডেট পেতে চোখ রাখুন: ফেসবুক: facebook.com/DailyPerspective.tv ইউটিউব: youtube.com/@DailyPerspectivebd ওয়েবসাইট: dailyperspective.tv Instagram: instagram.com/dailyperspective.tv

