শুল্কছাড়ের সুযোগ থাকলেও রপ্তানিকারকদের অনাগ্রহ কেন?

spot_img

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা: রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত বছরের সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়াই ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির বিশেষ সুবিধা চালু করে। তবে কার্যকর হওয়ার পরও কঠোর প্রক্রিয়া, দীর্ঘ অনুমোদন ব্যবস্থা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে অধিকাংশ রপ্তানিকারক এই সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে রপ্তানি খাতকে গতিশীল করার উদ্দেশ্যে নেওয়া উদ্যোগটি প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না।

ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকদের মতে, এই সুবিধা গ্রহণ করতে আমদানির আগে ও পরে একাধিক দপ্তরের অনুমোদন নিতে হয়। পাশাপাশি ব্যাংক গ্যারান্টির অর্থ অবমুক্ত করার প্রক্রিয়াও সময়সাপেক্ষ ও জটিল। এতে অতিরিক্ত সময়, ব্যয় এবং প্রশাসনিক হয়রানির ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা এড়িয়ে চলছে।

ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান বলেন, বিদ্যমান কাঠামো ব্যবসায়ীদের জন্য বাস্তবসম্মত নয়। তার মতে, চীন ও ভিয়েতনামের মতো মূল্য সংযোজনভিত্তিক (ভ্যালু অ্যাডেড) শর্তে সুবিধা দেওয়া হলে উদ্যোক্তারা আরও বেশি উপকৃত হতেন এবং রপ্তানি সক্ষমতাও বাড়ত।

আরও পড়ুন:বন্যার ছোবল: চট্টগ্রামে দুই শিশু ও চকরিয়ায় একজনের মৃত্যু

আসবাবপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমানও বর্তমান প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ছোট ছোট ক্রয়াদেশের ক্ষেত্রে প্রতিবার আলাদা অনুমতি নেওয়া কার্যত অসম্ভব। তার ভাষায়, সুবিধা দেওয়ার আগেই এমন শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যা ব্যবসার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করছে।

এনবিআরের প্রত্যাশা ছিল, নতুন এই নীতির মাধ্যমে রপ্তানি সক্ষমতা বাড়বে, নতুন পণ্যের উৎপাদন উৎসাহিত হবে এবং রপ্তানি বাজারে বৈচিত্র্য আসবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে, যা রপ্তানি খাতের সামনে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, প্রতিটি চালানের জন্য পৃথক অনুমতি, বিস্তৃত নথিপত্র এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ব্যবসার গতি কমিয়ে দিচ্ছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর, যারা সীমিত জনবল ও আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে অনেকে আবার আগের আমদানি ব্যবস্থায় ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে সহজ শর্তে শুল্কসুবিধা, দ্রুত অনুমোদন ব্যবস্থা এবং ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যাংক গ্যারান্টি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করা গেলে এই সুবিধার প্রতি ব্যবসায়ীদের আস্থা বাড়বে।

এদিকে এনবিআরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রকৃত রপ্তানিকারকদের যেসব সমস্যার কথা উঠে এসেছে, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হলে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির এই উদ্যোগ কার্যকর হবে এবং দেশের রপ্তানি খাত নতুন গতি পাবে।

আমাদের আরও আপডেট পেতে চোখ রাখুন: ফেসবুক: facebook.com/DailyPerspective.tv ইউটিউব: youtube.com/@DailyPerspectivebd ওয়েবসাইট: dailyperspective.tv Instagram: instagram.com/dailyperspective.tv

spot_img
Latest news
Related news

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here