চট্টগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত: বন্যা-বৃষ্টিতে চরম দুর্যোগ

spot_img

ভয়াবহ বন্যা, টানা অতি ভারী বৃষ্টিপাত এবং ক্রমাবনতিশীল দুর্যোগ পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার বুধবারের (৭ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক জরুরি আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে শুধু চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও কক্সবাজার জেলার পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হলেও দুর্যোগ পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির পর পুরো চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলার পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত দিনের পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন: শিক্ষামন্ত্রীর নতুন ঘোষণা: মাদরাসা নিয়ে সুখবর দিলেন

শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন তারিখ ও সময়সূচি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর ঘোষণা করা হবে। এ সময় পর্যন্ত পরীক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি বোর্ডের পরবর্তী নির্দেশনার দিকে নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে টানা দুই দিনের অতি ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং পার্বত্য অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। চট্টগ্রাম নগরীতে সোমবার বিকেল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় গত ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ধস ও দেয়ালচাপায় চট্টগ্রাম নগর, রাঙ্গুনিয়া, রাঙামাটি এবং কক্সবাজারে কয়েকজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার ফি: সরকার কি নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে?

দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে সড়ক, রেল ও আকাশপথেও। খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় দুই জেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তিনটি ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি। একই সময়ে কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি পানিবন্দী হয়ে প্রায় এক হাজার যাত্রীসহ ষোলোশহর স্টেশনে আটকা পড়ে।

সবচেয়ে সংকটজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কক্সবাজারে। উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৯৩টির বেশি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। জেলার একাধিক উপজেলায় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় যান চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে হাজারো মানুষ ও পরীক্ষার্থী পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্লাবিত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। তবে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।

অন্যদিকে, ট্রেনে আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করছে রেল কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতজনিত ঝুঁকি কমলেও নতুন সময়সূচি নিয়ে অনেক পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে। শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর নতুন পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করা হবে। অভিভাবকদের প্রত্যাশা, দুর্যোগ কেটে গেলে দ্রুত সংশোধিত সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।

আমাদের আরও আপডেট পেতে চোখ রাখুন: ফেসবুক: facebook.com/DailyPerspective.tv ইউটিউব: youtube.com/@DailyPerspectivebd ওয়েবসাইট: dailyperspective.tv Instagram: instagram.com/dailyperspective.tv

spot_img
Latest news
Related news

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here