হারারেতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যে জিম্বাবুয়েকে মাত্র ১৪১ রানে গুটিয়ে দিয়ে সহজ জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচে ১০ ওভারে মাত্র ২১ রান খরচায় ৬ উইকেট শিকার করে দেশের ওয়ানডে ইতিহাসে এক ইনিংসে সেরা বোলিংয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। এই জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে টাইগাররা।
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। চোটের কারণে একাদশে ছিলেন না লিটন দাস; তার পরিবর্তে উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন নুরুল হাসান। নতুন বলে তাসকিন আহমেদ এবং পরে নাহিদ রানার গতিময়, বাউন্সসমৃদ্ধ ও নিখুঁত ইয়র্কারের সামনে শুরু থেকেই অসহায় হয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপ।
বাংলাদেশের বোলারদের ধারাবাহিক চাপে ইনিংসের শুরু থেকেই ছন্দ হারায় স্বাগতিকরা। দলীয় ৩৬ রানেই হারায় প্রথম দুই উইকেট। অধিনায়ক মিরাজের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হন বেন কারান। এরপর তাসকিন আহমেদের বলে বিদায় নেন ব্রায়ান বেনেট এবং ক্রেইগ আরভিন। মিডল অর্ডারে এসে প্রতিরোধ গড়ার আগেই সিকান্দার রাজাকে ফিরিয়ে দেন নাহিদ রানা। এরপর একে একে ওয়েসলি মাধেভেরে, মাদানধে ও ইনোসেন্ট কাইয়াকেও সাজঘরে ফেরান তিনি।
একপর্যায়ে ৮ উইকেটে বিপর্যস্ত জিম্বাবুয়েকে নবম উইকেটে কিছুটা লড়াইয়ের আশা দেখান রিচার্ড এনগারাভা ও নিয়ামুরি। তাদের অর্ধশতাধিক রানের জুটি স্কোর কিছুটা এগিয়ে নিলেও শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিরোধও ভেঙে দেন নাহিদ। এনগারাভাকে ফিরিয়ে নিজের ষষ্ঠ উইকেট তুলে নেওয়ার পাশাপাশি জিম্বাবুয়ের ইনিংসেরও ইতি টানেন তিনি। এর আগে এনগারাভার একটি ক্যাচ হাতছাড়া করেছিলেন তানজিদ হাসান, তবে সেটি শেষ পর্যন্ত বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।
১৩ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি নাহিদ রানার তৃতীয় পাঁচ বা ততোধিক উইকেট শিকারের কীর্তি। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমানের ছয়বার পাঁচ উইকেট পাওয়ার রেকর্ডের পরই এখন নাহিদের অবস্থান। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে সেরা বোলিংয়ের নতুন মালিক। এর আগে ২০০৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে ৬ উইকেটে ২৬ রান দিয়ে এই কীর্তি গড়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। পরে ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একই পরিসংখ্যান গড়ে সেই রেকর্ডে ভাগ বসান রুবেল হোসেন। হারারেতে ২১ রানে ৬ উইকেট নিয়ে তাদের দুজনকেই ছাড়িয়ে গেলেন নাহিদ।
নাহিদের রেকর্ডগড়া স্পেলের পাশাপাশি তাসকিন আহমেদের নতুন বলে আঘাত, অধিনায়ক মিরাজের কার্যকর ফিল্ড প্লেসমেন্ট এবং পুরো বোলিং ইউনিটের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স বাংলাদেশের সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে। জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের মধ্যে কেবল এনগারাভাই কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন, তবে অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পতনের কারণে সেই লড়াই বড় সংগ্রহে রূপ নিতে পারেনি।
শেষ পর্যন্ত ১৪১ রানে অলআউট হওয়া জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে লক্ষ্য তাড়া করতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি বাংলাদেশকে। সহজ জয় তুলে নিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। বিশ্লেষকদের মতে, বোলিং ইউনিট যদি একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে, তবে সিরিজ জয়ের পথ বাংলাদেশের জন্য আরও সহজ হয়ে উঠবে।
আমাদের আরও আপডেট পেতে চোখ রাখুন: ফেসবুক: facebook.com/DailyPerspective.tv ইউটিউব: youtube.com/@DailyPerspectivebd ওয়েবসাইট: dailyperspective.tv Instagram: instagram.com/dailyperspective.tv

