আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ পত্রিকা ‘দ্য অবজারভার’ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আগামী সোমবারই তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে পারেন। তবে সরকারি সূত্রগুলো দাবি করছে, স্টারমার এখনো দায়িত্ব পালনে অবিচল এবং দেশ পরিচালনার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন।
দীর্ঘদিন ধরেই লেবার পার্টির নেতা স্টারমারের ওপর নেতৃত্বের চাপ বাড়ছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার পার্লামেন্টের একটি উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহামের বড় ব্যবধানে জয়লাভের পর স্টারমারের পদত্যাগের দাবি ও গুঞ্জন নতুন করে চাউর হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বার্নহামের এই সাফল্য স্টারমারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পথ তৈরি করে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: মেলোনির সঙ্গে ট্রাম্পের বাগ্যুদ্ধ তুঙ্গে
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্টারমার তাঁর গ্রামের বাড়ি চেকার্সে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতারা ধারণা করছেন, আগামীকালের মধ্যেই হয়তো তিনি তাঁর পরবর্তী অবস্থান স্পষ্ট করবেন। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, স্টারমার এখনো নিজের অবস্থানে অনড় এবং তিনি যেকোনো ধরনের নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত।
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় নিশ্চিত করলেও, সাম্প্রতিক নীতিগত বিতর্ক ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ইস্যুতে ব্যর্থতার কারণে স্টারমারের জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছে। গত মাসের স্থানীয় নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর থেকেই লেবার পার্টির এক-চতুর্থাংশ আইনপ্রণেতা তাঁর পদত্যাগ দাবি করে আসছেন। এমনকি দলের শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রীরাও তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে পদত্যাগ করেছেন।
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালী আবারও বন্ধ ঘোষণা করল ইরান
এর আগে শুক্রবার স্টারমার দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এ ধরনের তিক্ত ও বিভাজনমূলক নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া দলটির জন্য বিশৃঙ্খলা ডেকে আনতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত সোমবার তিনি কী ঘোষণা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো যুক্তরাজ্য।
আমাদের আরও আপডেট পেতে চোখ রাখুন: ফেসবুক: facebook.com/DailyPerspectivebd ইউটিউব: youtube.com/@DailyPerspectivebd ওয়েবসাইট: dailyperspective.tv
