এইচএসসি ২০২৬: নকল রুখতে ঢাকা বোর্ডের ৩৫ দফা কঠোর নির্দেশনা

spot_img

আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে ৩৫ দফা কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। রোববার (১৪ জুন) বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনায় পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কেন্দ্র সচিব এবং কক্ষ পরিদর্শকদের দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণসহ যেকোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতির দায় সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে বোর্ড।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) অনুমোদিত পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষায় অংশ নেবেন। অন্যদিকে অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য হবে ২০২৫ সালের সিলেবাস। প্রতিদিনের পরীক্ষা যথারীতি সকাল ১০টা ও দুপুর ২টায় শুরু হবে। পরীক্ষার্থীদের সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে এবং পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে নিজ নিজ আসনে অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষা শুরুর অন্তত তিন দিন আগে ট্রেজারি বা নির্ধারিত নিরাপদ লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময় কেন্দ্র সচিব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), ট্রেজারি কর্মকর্তা এবং পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক থাকবে। প্রশ্নপত্রের সেট কোড মোবাইল বার্তার মাধ্যমে নিশ্চিত না করে কোনো খাম খোলা যাবে না। ভুল সেটের প্রশ্নপত্র বিতরণ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও সতর্কবার্তা দিয়েছে বোর্ড।

পরীক্ষাকেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন কক্ষ পরিদর্শক নিয়োগ এবং প্রতিটি কক্ষে ন্যূনতম দুইজন পরিদর্শক রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন করতে পারবেন না।

নকল প্রতিরোধে এবার টয়লেটগুলোতে নিয়মিত তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ক্যামেরার মডেল, আইডি এবং পাসওয়ার্ডসহ প্রয়োজনীয় তথ্য বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র আলাদাভাবে সংরক্ষণ, ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্রের ব্যবস্থা এবং পরীক্ষার দিন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে অভিভাবক বা অন্যদের অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, পরীক্ষা পরিচালনার প্রতিটি ধাপে নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম, অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতির ঘটনা ঘটলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তাবে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে বোর্ডের এই উদ্যোগ সময়োপযোগী এবং ইতিবাচক। তবে নির্দেশনা জারির পাশাপাশি সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ, টয়লেট তল্লাশি এবং কেন্দ্রভিত্তিক তদারকি কতটা আন্তরিকভাবে পরিচালিত হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে উদ্যোগটির সফলতা। একই সঙ্গে নকলচক্র সক্রিয় থাকলে তা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদারের প্রয়োজন রয়েছে বলে শিক্ষা বিশ্লেষকদের অভিমত।

বোর্ডের নির্দেশনা দেখুন এখানে

আমাদের আরও আপডেট পেতে চোখ রাখুন: ফেসবুক: facebook.com/DailyPerspective.tv ইউটিউব: youtube.com/@DailyPerspectivebd ওয়েবসাইট: dailyperspective.tv Instagram: instagram.com/dailyperspective.tv

spot_img
Latest news
Related news

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here