‘তুমি কে, আমি কে ফার্মের মুরগি’ | সায়েন্সল্যাবে শিক্ষার্থীদের গর্জন: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি

spot_img

প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আয়োজন এবং পরীক্ষার্থীদের নিয়ে করা বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (সকাল সাড়ে ১০টার দিকে) বিএনএস সেন্টারের সামনে পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন এবং সড়ক অবরোধ করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে মন্তব্য করে তাদের সম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল—‘দফা এক, দাবি এক—মিলনের পদত্যাগ’, ‘তুমি কে, আমি কে—ফার্মের মুরগি’ এবং ‘কে বলেছে, কে বলেছে—শিক্ষামন্ত্রী’। শিক্ষার্থীরা বলেন, পরীক্ষা চলাকালে এমন মন্তব্য তাদের জন্য অপমানজনক এবং এটি শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের পরিপন্থী।

শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচির কারণে ধানমন্ডি-নিউমার্কেট সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস ও সিএনজি আটকে থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। অনেক মানুষ বাধ্য হয়ে যানবাহন ছেড়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, বন্যা পরিস্থিতি ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তারা জানান, তাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদেরও কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে বিক্ষোভ চলাকালে কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, উত্তরা, শাহবাগ ও মিরপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং রাজশাহী, বরিশাল, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এলাকায়ও একই ধরনের কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি এরই মধ্যে দেশের শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ও দাবির পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবহৃত ভাষা ও আচরণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল যোগাযোগ জরুরি। বিকেলের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।

আমাদের আরও আপডেট পেতে চোখ রাখুন: ফেসবুক: facebook.com/DailyPerspective.tv ইউটিউব: youtube.com/@DailyPerspectivebd ওয়েবসাইট: dailyperspective.tv Instagram: instagram.com/dailyperspective.tv

spot_img
Latest news
Related news

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here