সম্প্রতি বরিশালের একটি এলাকায় শিয়াল শিকার করে তার মাংস ভক্ষণ করার একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটির পর অনেকেই জানতে চাইছেন, ইসলামের দৃষ্টিতে শিয়ালের মাংস খাওয়া বৈধ নাকি হারাম। ইসলামি শরীয়াহর মূলনীতি, হাদিস ও ফিকহের আলোকে আলেমরা বলছেন, শিয়াল হিংস্র প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এর মাংস ভক্ষণ বৈধ নয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনেও শিয়াল শিকার ও বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী কোনো প্রাণী হালাল কিংবা হারাম হবে কি না, তা মানুষের রুচি, অভ্যাস বা স্থানীয় সংস্কৃতির ওপর নির্ভর করে না; বরং কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনাই এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত মানদণ্ড। সহিহ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) নখ ও দাঁত দিয়ে শিকার করা হিংস্র প্রাণীর মাংস ভক্ষণ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন।
ফিকহবিদদের ব্যাখ্যায় শিয়াল এমন একটি প্রাণী, যা ধারালো দাঁত ব্যবহার করে শিকার ধরে এবং মাংসাশী স্বভাবের হওয়ায় ‘সিবা’ বা হিংস্র জন্তুর অন্তর্ভুক্ত। এ কারণে অধিকাংশ ফকিহের মতে এর মাংস খাওয়া হারাম। প্রখ্যাত ফকিহ আল্লামা আলাউদ্দিন কাসানি (রহ.) এবং ইমাম ইবনে আবেদীন (রহ.)-সহ বহু ইসলামি আইনজ্ঞ দাঁত দিয়ে শিকার করা প্রাণী ভক্ষণকে নিষিদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সমাজে দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে শিয়ালের মাংস বা চর্বি বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় কার্যকর হতে পারে। তবে ইসলামি শরীয়াহ সাধারণ অবস্থায় হারাম বস্তুকে চিকিৎসার উপায় হিসেবে গ্রহণের অনুমতি দেয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বর্ণিত হাদিসে স্পষ্টভাবে এসেছে, আল্লাহ তাআলা মানুষের আরোগ্য হারাম বস্তুর মধ্যে রাখেননি।
তবে শরীয়াহ একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেছে। যদি কোনো ব্যক্তি জীবন-মৃত্যুর সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকেন এবং একজন দক্ষ ও বিশ্বস্ত মুসলিম চিকিৎসক নিশ্চিত করেন যে হারাম বস্তু ছাড়া অন্য কোনো কার্যকর চিকিৎসা নেই, আর তা ব্যবহার না করলে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে, তাহলে জীবন রক্ষার প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে তা ব্যবহারের অবকাশ থাকতে পারে। ইসলামি আইনবিদরা এটিকে সাধারণ বিধান নয়, বরং চরম প্রয়োজনের ব্যতিক্রমী অনুমতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
বিষয়টি শুধু ধর্মীয় বিধানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে পরিবেশ ও আইনগত দায়বদ্ধতার বিষয়ও জড়িত। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শিয়াল সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর অন্তর্ভুক্ত। ফলে শিয়াল শিকার, বিক্রি বা অবৈধভাবে ব্যবহার করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আলেমদের মতে, কুসংস্কার, অপচিকিৎসা কিংবা লোকমুখে প্রচলিত গুজবের ভিত্তিতে শিয়ালের মাংস বা চর্বি ব্যবহার করা উচিত নয়। ধর্মীয় নির্দেশনা, বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা এবং দেশের আইন—এই তিনটির প্রতিই সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক ধর্মীয় জ্ঞান প্রচারের মাধ্যমেই এ ধরনের বিভ্রান্তি দূর করা সম্ভব।
আমাদের আরও আপডেট পেতে চোখ রাখুন: ফেসবুক: facebook.com/DailyPerspective.tv ইউটিউব: youtube.com/@DailyPerspectivebd ওয়েবসাইট: dailyperspective.tv Instagram: instagram.com/dailyperspective.tv

