আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৬২তম অধিবেশনে কাশ্মীর, সন্ত্রাসবাদ এবং ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তিকে কেন্দ্র করে আবারও তীব্র কূটনৈতিক বাকযুদ্ধে জড়িয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। জেনেভায় অনুষ্ঠিত অধিবেশনে উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদদ, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের এই প্রকাশ্য অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায় বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও গভীর করতে পারে।
অধিবেশনে ভারতের ফার্স্ট সেক্রেটারি অনুপমা সিং পাকিস্তানের বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে আর পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তান রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় ও প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। পাশাপাশি রাওয়ালাকোটসহ কয়েকটি এলাকায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও উত্থাপন করেন তিনি।
এর জবাবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ দাবি করেন, আজাদ কাশ্মীরকে অস্থিতিশীল করার ভারতের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভারত যদি কোনো ‘দুঃসাহসিক পদক্ষেপ’ নেয়, তবে তার ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, ভারত ও আফগানিস্তান পাকিস্তানে অস্থিতিশীলতা তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।
এদিকে, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির বারাণসীর একটি মসজিদসংক্রান্ত মন্তব্যও দুই দেশের নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নয়াদিল্লি ওই মন্তব্যকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করে জানায়, এ বিষয়ে পাকিস্তানের কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, কাশ্মীর প্রশ্ন, সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ এবং সিন্ধু পানি চুক্তি—এই চারটি ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়। সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দুই দেশের অবস্থান আরও অনমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ বলেই মনে করছেন তারা।
আমাদের আরও আপডেট পেতে চোখ রাখুন: ফেসবুক: facebook.com/DailyPerspective.tv ইউটিউব: youtube.com/@DailyPerspectivebd ওয়েবসাইট: dailyperspective.tv Instagram: instagram.com/dailyperspective.tv

