চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা ৮টি কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থীই অংশগ্রহণ করতে পারছে না। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের জন্য এটি অত্যন্ত উদ্বেগের একটি বিষয়। জানা গেছে, এর মধ্যে ৪টি কলেজে কোনো শিক্ষার্থীই নিবন্ধন করেনি, আর বাকি ৪টি কলেজের নিবন্ধিত ৩৫ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
বোর্ড সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীবিহীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় চারটি, কুমিল্লা জেলায় তিনটি এবং ফেনী জেলায় একটি কলেজ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— কুমিল্লার বেগম জহুরা মহিলা কলেজ, ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ ও সিসিএন মডেল কলেজ; ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সাতগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, কৃষ্ণনগর আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, তিতাস মডেল কলেজ এবং উলুকান্দি কলেজ; ও ফেনীর নোবেল কলেজ।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, এবার এই বোর্ডের অধীনে ৬টি জেলার মোট ৪৬৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৯৪ হাজার ৮০২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ৫৭ হাজার ১৯৬ জন এবং ছাত্র ৩৭ হাজার ৬০৬ জন। অর্থাৎ ছাত্রীদের সংখ্যা ছাত্রদের চেয়ে প্রায় ১৯ হাজার ৫৯০ জন বেশি।
বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) মো. সালাহউদ্দিন বলেন, ‘৪৬৪টি প্রতিষ্ঠানের ৯৪ হাজার ৮০২ জন শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তবে ৮টি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী না থাকায় তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না। এছাড়া গত বছর শূন্য থেকে ৫ শতাংশ পাস করা ১৩টি কলেজের স্বীকৃতি বাতিল করায় সেগুলোও এবারের পরীক্ষায় নেই।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, নারী শিক্ষার হার বাড়লেও ছেলেদের অংশগ্রহণ কেন কমছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শিবু চন্দ্র সরকার জানান, আর্থিক ও শিক্ষক সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী কমেছে। এ বছর ১০ জন ভর্তি হলেও তারা পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
বিষয়টি নিয়ে বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. জামাল নাসের মন্তব্য করেন, বিদ্যালয়ের সঙ্গে কলেজ শাখা যুক্ত করলে অনেক ক্ষেত্রেই তা মানসম্মত রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। পরিকল্পিত অবকাঠামো ছাড়া কলেজ পরিচালনা করলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
এদিকে বর্তমান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, যেসব কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি, সেগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে। কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং ওইসব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
আমাদের আরও আপডেট পেতে চোখ রাখুন: ফেসবুক: facebook.com/DailyPerspectivebd ইউটিউব: youtube.com/@DailyPerspectivebd ওয়েবসাইট: dailyperspective.tv
